Cicadellidae
বালাই
পাতাফড়িঙ্গের আক্রমণের ফলে যে ক্ষতি হয় তা খরাজনিত পরিস্থিতিতে বা পুষ্টি উপাদানের অভাবের ফলে যে ক্ষতিসাধন হয় অবিকল তার মতো দেখতে হয়। পাতাফড়িং পাতার নিচে বসে খায়। খাওয়ার স্থানকে ঘিরে হলুদ অঞ্চল তৈরি এবং পরে পাতার ধারগুলো সামান্য মুড়ে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে সাধারণত রোগের সূচনা হয়। পরবর্তীতে, হলুদ অংশ পাতার বাকি অংশে ছড়িয়ে যায়। পাতা নিচের দিকে গুটিয়ে যায় এবং শেষপর্যন্ত ঝরে পড়ে যায়। এর ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ফল উৎপাদন কমে যায়।
পরজীবি পতঙ্গ যেমন অ্যানাগ্রাস অ্যাটোমাসকে জৈব নিয়ন্ত্রণকারী পদ্ধতি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। উপকারী পতঙ্গ যেমন লেডিবাগ ও লেস উইং এ পোকার ডিম ও লার্ভা উভয়কেই গোগ্রাসে খেয়ে ফেলে। পরজীবি ছত্রাকের প্রজাতি যেমন মেটারিহিজিয়াম অ্যানিসোপ্যালি, বিউভারিয়া ব্যাসিয়ানা, পেসিলোমাইসেস ফুমোসোরোসিয়াস ও ভার্টিসিলিয়াম লেকানি সমৃদ্ধ জৈব কীটনাশক প্রয়োগ করলে আক্রমণের তীব্র অবস্থায় তা কাজে দেয়। কীটনাশক সাবানও কাজে দেয়। স্পিনোস্যাড @ ০.৩৫ মিলি.
সম্ভবমতো সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বদা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। পাতাফড়িঙ্গের বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রনে কীটনাশকের সাহায্যে বীজ শোধন কার্যকরী ফল দেয়। নিওনিকোটিনয়েডস সমৃদ্ধ দ্রব্য মাটিতে বাস করা পতঙ্গকে মেরে ফেলতে পারে যার ফলে শিকড় এদের আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পায়। এছাড়াও উদ্ভিদকেও এ সুরক্ষাকবচ দিতে পারে।
এই পোকাগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রীণহাউস পোকা এবং এমনকি সংখ্যায় কম হলেও ক্ষতিসাধন করতে পারে। পূর্ণবয়সী পাতাফড়িং সবুজ রঙের হয়, ৩-৪ মিলিমিটার দীর্ঘ ও চিরহরিৎ উদ্ভিদের উপর গোটা শীত মরশুম অতিবাহিত করে। স্ত্রী পোকা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাতার নিচে পত্রশিরার কোষের চারিদিক ঘিরে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে এক থেকে চার সপ্তাহ পরে কীড়াপোকা বেরিয়ে আসে। নিম্ফ ও পূর্ণাঙ্গ পোকা আশ্রয়দাতা উদ্ভিদের কোষকলাস্থিত রস শুষে খেয়ে ক্ষতিসাধন করে। যখন শোষন করে, তখন একধরনের বিষাক্ত যৌগ উদ্ভিদ দেহে প্রবেশ করিয়ে দেয় যার ফলে উদ্ভিদের শিরায় পরিবহন স্তব্ধ হয়ে যায়, যার জন্যে এ লক্ষণ জল বা পুষ্টির অভাবজনিত লক্ষণের মতো অবিকল একই রকমের হয়।