Alternaria helianthi
ছত্রাক
পাতা, পেটিওল, কাণ্ড, সেপাল এবং পাপড়িসহ গাছের উপরের সব অংশে বাদামি দাগ দেখা যেতে পারে। এই ছত্রাক চারা‑পচা এবং ফুলের মাথা পচা রোগ সৃষ্টি করে। পাতায় ক্ষতগুলো গাঢ় বাদামি, চারপাশে হালকা রঙের প্রান্ত এবং একটি হলুদ বৃত্ত থাকে। রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতের আকার বড় হয়ে প্রায় ২–৩ সেমি ব্যাসে পৌঁছায় এবং পরে একত্রিত হয়ে অনিয়মিত আকারের বড় ক্ষত তৈরি করে, যার ফলে পাতা ঝলসে যায় এবং শুকিয়ে যায়। এগুলোকে ঘিরে থাকে ক্লোরোটিক অঞ্চল এবং মাঝখানে ধূসর‑সাদা মৃত টিস্যু। দাগ প্রথমে নিচের পাতায় দেখা যায় এবং পরে মাঝের ও উপরের পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। কাণ্ডে ক্ষতগুলো গোলাকার, লম্বাটে বা দাগযুক্ত কালো চিহ্ন হিসেবে দেখা যায়। সেপাল ও পাপড়িতে দাগগুলো পাতার মতোই হলেও আকারে ছোট (০.৫–২ সেমি ব্যাস) এবং একত্রিত হয়ে যায়। সংক্রমণের ফলাফল হলো পাতা ঝলসে যাওয়া ও ঝরে পড়া, ফুল ও বীজ‑মাথার ক্ষতি, কুঁকড়ে যাওয়া, কাণ্ড ফেটে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত গাছের মৃত্যু। কখনও কখনও ফুলের মাথা পচে যাওয়াও দেখা যায়।
শরৎকালে পূর্ববর্তী ফসল কাটার পর মাটির স্ব‑পরিষ্কার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য Trichoderma spp.‑ভিত্তিক জৈব পণ্য অথবা উদ্ভিদরোগজীবাণুর জৈব নিয়ন্ত্রণকারী এজেন্ট (Bacillus spp., Pseudomonas spp.) প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জৈবিক চিকিৎসা (যদি পাওয়া যায়) একত্রে ব্যবহার করে সবসময় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা বিবেচনা করুন। রোপণের জন্য ইমাজালিল এবং টেবুকোনাজল‑সমৃদ্ধ (সিস্টেমিক ছত্রাকনাশক) প্রয়োগ করা বীজ ব্যবহার করুন। বৃদ্ধিকালীন সময়ে সাইমোক্সানিল (স্থানীয়ভাবে সিস্টেমিক ছত্রাকনাশক), বোস্ক্যালিড এবং টেবুকোনাজল‑সমৃদ্ধ (সিস্টেমিক ছত্রাকনাশক) ফর্মুলেশন ব্যবহার করলে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এটি Alternaria helianthi ছত্রাক দ্বারা ঘটে। রোগজীবাণু বীজ এবং গাছের অবশিষ্টাংশে টিকে থাকে। চারা গজানোর সময় থেকে ফসল কাটার আগে পর্যন্ত গাছ সংক্রমণের জন্য সংবেদনশীল থাকে। উষ্ণ, শুষ্ক আবহাওয়া এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাতের সময় রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ গাছের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে তোলে।