সূর্যমুখীর মোজাইক ভাইরাস

সূর্যমুখী

সূর্যমুখীর মোজাইক ভাইরাস

Potyvirus helitessellati

ভাইরাস

সংক্ষেপে

  • পাতায় হলুদ ও সবুজ দাগের মোজাইক‑ধরনের নকশা দেখা যায়।
  • পাতার উপরিভাগে ছোট ছোট হলুদ দাগ তৈরি হয়।
  • গাছ খাটো ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
  • সূর্যমুখীর মাথা সঠিকভাবে বিকশিত হয় না এবং বীজের সংখ্যা কমে যায়।

এখানেও পাওয়া যেতে পারে

0 বিবিধ ফসল

সূর্যমুখীর মোজাইক ভাইরাস

সূর্যমুখী

উপসর্গ

শুরুর দিকে পাতায় হালকা ও গাঢ় সবুজ দাগের মোজাইক‑ধরনের নকশা দেখা যায়। পাতার উপরিভাগে উজ্জ্বল হলুদ ছোট দাগ তৈরি হয়। লক্ষণ সাধারণত গাছের উপরের দিকের কচি পাতায় প্রথম দেখা যায়। উন্নত পর্যায়ের লক্ষণ ৩ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় পরে স্পষ্ট হয়। আক্রান্ত গাছ সুস্থ সূর্যমুখীর তুলনায় খাটো ও দুর্বল থাকে। সূর্যমুখীর মাথা ছোট হয় এবং সঠিকভাবে বিকশিত হয় না। বীজের সংখ্যা কমে যায় এবং সেগুলো আকারেও ছোট হতে পারে। গুরুতর সংক্রমণে পাতাগুলো বাদামী হয়ে ঝরে পড়ে।

সুপারিশমালা

জৈব নিয়ন্ত্রণ

এই ভাইরাসজনিত রোগের কোনো জৈবিক চিকিৎসা নেই। দীর্ঘমেয়াদে ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য জাবপোকা‑কেন্দ্রিক জৈবিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে ভালো কৃষি‑ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সমন্বয় করুন।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

আক্রান্ত গাছকে কোনো রাসায়নিক দিয়ে আরোগ্য করা যায় না। নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্য হলো জাবপোকা দমন করে ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করা। জাবপোকা প্রথম দেখা দিলে, ভাইরাস ছড়ানোর আগেই কীটনাশক প্রয়োগ করুন। পাতার উপরের ও নিচের উভয় পৃষ্ঠে স্প্রে করুন, কারণ জাবপোকা সাধারণত পাতার নিচে লুকিয়ে থাকে। দমকা হাওয়া বা বৃষ্টির ঠিক আগে স্প্রে করবেন না। প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠা রোধ করতে কীটনাশকের শ্রেণি পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করুন। সর্বদা সুরক্ষামূলক পোশাক পরুন এবং লেবেলে বর্ণিত নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

এটা কি কারণে হয়েছে

সূর্যমুখীর মোজাইক ভাইরাস Potyvirus helitessellati দ্বারা সৃষ্ট এবং এটি বিশ্বব্যাপী সব ধরনের সূর্যমুখী জাতকে, এমনকি বুনো জাতকেও, আক্রান্ত করে। আক্রান্ত বীজ নতুন চাষাবাদে ভাইরাস ছড়াতে পারে। সবুজ পীচ জাবপোকা আক্রান্ত গাছ থেকে সুস্থ গাছে ভাইরাস বহন করে। উষ্ণ আবহাওয়ায় জাবপোকার সক্রিয়তা বেশি থাকায় ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষেতের শ্রমিকদের হাত, পোশাক বা দূষিত কৃষিযন্ত্র ও সরঞ্জামের মাধ্যমেও ভাইরাস পুরো জমিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।


প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • বিশ্বস্ত উৎস থেকে প্রত্যয়িত ভাইরাস‑মুক্ত বীজ সংগ্রহ করুন।
  • সব কৃষিযন্ত্র জীবাণুমুক্ত করুন।
  • জমির চারপাশ থেকে বুনো সূর্যমুখী ও জিনিয়া গাছ পরিষ্কার করুন।
  • জাবপোকার সংখ্যা কম থাকাকালীন (চূড়ান্ত মৌসুম এড়িয়ে) বপন করুন।
  • প্রাথমিক লক্ষণ ও জাবপোকা শনাক্ত করতে সপ্তাহে একবার গাছ পরীক্ষা করুন।
  • আক্রান্ত গাছ সঙ্গে সঙ্গে তুলে ফেলুন—পুড়িয়ে বা মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করুন।
  • জমি আগাছামুক্ত রাখুন, কারণ আগাছা ভাইরাস বহন করতে পারে।
  • গাছ স্পর্শ করার পর হাত ধুয়ে নিন এবং যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করুন।
  • ফসল পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করুন—একই জমিতে ২–৩ বছর সূর্যমুখী চাষ করবেন না।
  • নতুন রোপণকে আক্রান্ত এলাকার কাছাকাছি রাখবেন না।
  • জাবপোকাকে বিভ্রান্ত করতে সিলভার প্লাস্টিক মালচ ব্যবহার করুন।

প্ল্যান্টিক্স অ্যাপসকে ডাউনলোড করুন