তিলের পাতাগুটানো পোকা

SESAME

তিলের পাতাগুটানো পোকা

Antigastra catalaunalis

বালাই

সংক্ষেপে

  • কচি শুঁয়োপোকারা ওপরের পাতাগুলো জাল দিয়ে একসাথে বেঁধে ফেলে এবং তার ভেতরেই খেতে থাকে।
  • ফলে পাতাগুলো মোচড়ানো, গুটিয়ে যাওয়া এবং সূক্ষ্ম সিল্ক‑সুতোয় শক্তভাবে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়।
  • পরে শুঁয়োপোকারা কোমল ডগা এবং গঠিত হতে থাকা ফলের কোষে ঢুকে খেতে শুরু করে।
  • জালবাঁধা পাতার ওপর এবং ফলের কোষে তৈরি হওয়া ছিদ্রের কাছে গাঢ় রঙের বালুর মতো মল সহজেই চোখে পড়ে।
  • আক্রান্ত গাছে ডগা শুকিয়ে যাওয়া, বীজে ছিদ্র এবং ভেতরের অংশ নষ্ট হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।

এখানেও পাওয়া যেতে পারে

0 বিবিধ ফসল

তিলের পাতাগুটানো পোকা

SESAME

উপসর্গ

শুরুর দিকে আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন কচি শুঁয়োপোকারা ওপরের পাতাগুলোকে সূক্ষ্ম সিল্ক‑সুতো দিয়ে একসাথে জাল বুনে বেঁধে ফেলছে। তারা এই জালবাঁধা পাতার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে এবং খেতে থাকে, ফলে পাতাগুলো মোচড়ানো, বিকৃত এবং গুটিয়ে যাওয়া অবস্থায় দেখা যায়। শুঁয়োপোকারা বড় হতে থাকলে পাতার ভেতর থেকে বেরিয়ে কোমল ডগা ও নরম বাড়ন্ত অংশে চলে যায়। তারা এই ডগার ভেতরে ঢুকে খেতে শুরু করে, যার ফলে গাছের ডগা শুকিয়ে যায় এবং উপরের অংশ মরে যেতে থাকে। মৌসুমের একটু পরে তারা গঠিত হতে থাকা ফলের কোষে ঢুকে বীজ খেয়ে ফেলে। তাদের উপস্থিতির একটি স্পষ্ট লক্ষণ হলো গাঢ় রঙের দানাদার মল, যা জালের সঙ্গে লেগে থাকে বা ফলের কোষে তৈরি হওয়া ছিদ্রের চারপাশে জমে থাকে। আক্রমণ খুব বেশি হলে গাছের পুরো ওপরের অংশ সিল্ক‑জালে জড়ানো শুকনো পাতার এক বিশৃঙ্খল গুচ্ছের মতো দেখায়।

সুপারিশমালা

জৈব নিয়ন্ত্রণ

পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিমজাত পণ্য যেমন নিম বীজের নির্যাস (NSKE) বা নিম তেল ব্যবহার করা যায়, যা প্রাকৃতিকভাবে পোকা তাড়ায় এবং শুঁয়োপোকার খাওয়া বন্ধ করে দেয়। উপকারী ছত্রাক যেমন Beauveria bassiana বা Metarhizium anisopliae‑যুক্ত স্প্রে ব্যবহার করলেও শুঁয়োপোকারা স্বাভাবিকভাবে সংক্রমিত হয়ে মারা যায়। মাকড়সা ও শিকারি বোলতার মতো প্রাকৃতিক শত্রুদের উৎসাহিত করা খুবই উপকারী, কারণ তারা শুঁয়োপোকা খেয়ে পোকা দমন করতে সাহায্য করে। রাতে মাঠে আলোক ফাঁদ বসালে পূর্ণবয়স্ক মথ ধরা পড়ে, ফলে গাছে ডিম পাড়ার সংখ্যা কমে যায় এবং পরবর্তী প্রজন্মের আক্রমণও হ্রাস পায়।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

সাধারণ রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় মূল লক্ষ্য হলো কচি শুঁয়োপোকারা ডগা বা ফলের কোষের ভেতরে ঢোকার আগেই তাদের দমন করা, কারণ একবার তারা গাছের ভেতরে লুকিয়ে পড়লে কোনো চিকিৎসাই ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। পাতায় প্রথম সিল্ক‑জাল দেখা মাত্রই স্প্রে করা সবচেয়ে কার্যকর হয়। সময় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; ভোরবেলা বা সন্ধ্যার দিকে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়, কারণ এই সময় শুঁয়োপোকারা পাতার ওপর সক্রিয় থাকে এবং সরাসরি স্পর্শে আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

এটা কি কারণে হয়েছে

এই পোকাটি আকারে ছোট, বাদামি‑কমলা রঙের একটি মথ, যা মূলত রাতের বেলায় সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। স্ত্রী মথ পাতার নিচের দিক, ফুলের কুঁড়ি এবং কচি ফলের কোষে ক্ষুদ্র সবুজাভ ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বের হওয়া শুঁয়োপোকারা ফ্যাকাশে সবুজ রঙের হয় এবং শরীরে ছোট ছোট কালো দাগ থাকে। এরা খুবই চঞ্চল; বিরক্ত করলে দ্রুত পিছনের দিকে কুঁকড়ে গিয়ে সিল্ক‑সুতোয় ঝুলে নিচে নেমে পড়ে। উষ্ণ আবহাওয়ায় এদের বৃদ্ধি বেশি হয়, বিশেষ করে যখন শুষ্ক আবহাওয়ার পর হালকা বৃষ্টি হয়। মাটিতে নাইট্রোজেনের মাত্রা বেশি হলে তিলগাছ নরম ও কোমল বৃদ্ধি পায়, যা শুঁয়োপোকার জন্য আরও সহজলভ্য খাদ্য হয়ে ওঠে এবং আক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ায়।


প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • তিলের গাছ মৌসুমের শুরুতেই বপন করলে পোকা বাড়ার আগেই গাছ পরিপক্ব হয়ে যায় এবং ক্ষতি কম হয়।
  • তিলের সঙ্গে অড়হর বা মুগডাল মিশ্র চাষ করলে আক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই কমে।
  • অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এতে গাছে নরম ও অতিরিক্ত বাড়তি বৃদ্ধি পায়, যা শুঁয়োপোকার জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
  • আক্রান্ত গাছের অংশ এবং জালবাঁধা পাতা দেখা মাত্র তুলে ধ্বংস করতে হবে।
  • ফসল কাটার পর জমিতে পড়ে থাকা পুরোনো গাছের অংশ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেললে লুকিয়ে থাকা শুঁয়োপোকা বা পিউপা নষ্ট হয়ে যায়।
  • মাকড়সা ও শিকারি বোলতার মতো প্রাকৃতিক শত্রুদের রক্ষা করা জরুরি, কারণ এরা শুঁয়োপোকা খেয়ে পোকা দমন করতে সাহায্য করে।
  • সপ্তাহে একবার জমি ঘুরে দেখা দরকার, বিশেষ করে ওপরের পাতাগুলো এবং ফুলের কুঁড়িতে জাল বাঁধার লক্ষণ আছে কি না তা খেয়াল করতে হবে।

প্ল্যান্টিক্স অ্যাপসকে ডাউনলোড করুন