Glyphodes caesalis
বালাই
শুঁয়োপোকা পরিপক্ব গাছের কচি ডগার শীর্ষ অংশ আক্রমণ করে, যার ফলে ডগা শুকিয়ে যায়। লার্ভা যখন বাড়ন্ত কচি ডগা ও শাখার ভেতরে ছিদ্র করে ঢুকে খেতে থাকে, তখন ডগা শুকিয়ে যাওয়া, মরে যাওয়া, বৃদ্ধি খর্ব হওয়া, ডগা বেঁকে ‘জিগজ্যাগ’ আকৃতি নেওয়া এবং পাশ থেকে অতিরিক্ত শাখা বের হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। ফুলের মঞ্জরির ভেতরেও লার্ভা খেয়ে ফেলে, ফলে মঞ্জরিতে ফুল ধরতে পারে না এবং পচে যায়। শুরুর দিকের আক্রমণে ফল বিকৃত হয়ে যায় বা কচি ফল অকালেই ঝরে পড়ে। পরে আক্রমণ হলে লার্ভা পরিপক্ব ফলের ভেতরে ঢুকে খেতে থাকে, ফলে ভক্ষণযোগ্য শাঁস নষ্ট হয়ে যায়। লার্ভার খাওয়ার ক্ষতস্থানে দ্বিতীয় পর্যায়ের রোগজীবাণু সহজে ঢুকে পড়ে, যার ফলে ফল দ্রুত পচে যায়।
পোকার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে কখন স্প্রে করা দরকার তা ঠিক করতে হবে। ফল প্যাকেটজাত পদ্ধতির সঙ্গে জৈব বা জীবাণুনাশকভিত্তিক স্প্রে একত্রে ব্যবহার করলে দমন আরও কার্যকর হয়। সর্বোত্তম ফলাফলের জন্য ডিম ও কচি লার্ভা অবস্থাকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নিতে হবে। জৈব বা জীবাণুভিত্তিক পদ্ধতি যথেষ্ট না হলে তবেই রাসায়নিক ব্যবহার করা উচিৎ।
স্প্রে করার জন্য কচি ডগা বা ফলের আক্রমণের প্রথম লক্ষণ দেখা মাত্রই প্রয়োগ শুরু করতে হবে। বাড়ন্ত মৌসুমে প্রায় প্রতি ১৫ দিন অন্তর পুনরায় স্প্রে করতে হবে। স্প্রে করার সময় কচি ডগা, ফুলের কুঁড়ি এবং কচি ফলের অংশে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। গরমের ক্ষতি এড়াতে ভোরবেলা বা সন্ধ্যাবেলা স্প্রে করা উত্তম। ভালোভাবে ভিজে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত স্প্রেডার‑স্টিকার ব্যবহার করতে হবে। স্প্রে করার সময় সর্বদা সুরক্ষামূলক পোশাক পরা জরুরি।
Jackfruit shoot and fruit borer (Diaphania caesalis) হলো কাঁঠালের একটি প্রধান পোকা, বিশেষ করে আর্দ্র উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে এর আক্রমণ বেশি দেখা যায়। এই পোকা ফুলের কুঁড়ি থেকে শুরু করে ফল পাকার পর্যায় পর্যন্ত কাঁঠালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কালো দাগযুক্ত লালচে‑বাদামি শুঁয়োপোকা কচি ডগা, ফুলের মঞ্জরি এবং বাড়ন্ত ফলের ভেতরে ছিদ্র করে ঢুকে খেতে থাকে, ফলে গুরুতর ক্ষতি হয়। পূর্ণবয়স্ক মথের রং ফিকে বাদামি, গায়ে গাঢ় বাদামি দাগ এবং কমলা রঙের ডোরা থাকে। স্ত্রী মথ কচি ডগা ও ফুলের কুঁড়িতে ডিম পাড়ে, এবং ডিম ফুটে বের হওয়ার পর লার্ভা সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভিদের ভেতরে ঢুকে পড়ে। লার্ভার কার্যকলাপ ফুল ফোটা ও ফল ধরার সময় সবচেয়ে বেশি হয়। লার্ভার খাওয়ার ক্ষতস্থানে বৃষ্টির জল ও বিভিন্ন অণুজীব সহজে ঢুকে পড়ে, যার ফলে দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ ঘটে এবং ফল দ্রুত পচে যায়। এই ক্ষতির কারণে ফল ও চারা গাছের বাজারমূল্য কমে যায়।