চা গাছের লাল মাইট

TEA

চা গাছের লাল মাইট

Oligonychus coffeae

মাকড়

সংক্ষেপে

  • পাতার মধ্যশিরা বরাবর প্রথমে হলুদ দাগ দেখা যায়, যা ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
  • আক্রান্ত পাতা পরে ব্রোঞ্জ, মরচে‑রঙ বা বেগুনি রঙ ধারণ করে এবং অনেক সময় ঝরে পড়ে।
  • পাতার নিচের দিকে সূক্ষ্ম সুতার মতো জাল দেখা যায়, যার মধ্যে ছোট ছোট লাল রঙের ডিম থাকে।
  • খুব ছোট লাল মাইট পুরনো পাতার ওপরের পৃষ্ঠে বসে রস চুষে খায়।

এখানেও পাওয়া যেতে পারে

1 বিবিধ ফসল
কফি

চা গাছের লাল মাইট

TEA

উপসর্গ

প্রথম লক্ষণ হিসেবে পুরনো পাতার মধ্যশিরা বরাবর হালকা হলুদ দাগ দেখা যায়। দাগগুলো শুরুতে ছোট থাকে, পরে ধীরে ধীরে বড় হয় এবং বাদামি রঙ ধারণ করে একসঙ্গে মিলিত হয়ে বড় ক্ষতচিহ্ন তৈরি করে। মাইটের খাওয়া চলতে থাকলে পাতার রং ব্রোঞ্জ, তামাটে‑বাদামি, মরচে‑রঙ বা বেগুনি হয়ে যায়। ক্ষতি সাধারণত পুরনো পাতার ওপরের পৃষ্ঠে, শিরা ও মধ্যশিরার পাশের অগভীর অংশে শুরু হয়। আক্রমণ বেশি হলে পাতার উপরের ও নিচের দুই পৃষ্ঠেই মাইট দেখা যায় এবং তখন কচি পাতাও আক্রান্ত হতে শুরু করে। আক্রান্ত পাতার নিচে সূক্ষ্ম সুতার মতো জাল দেখা যায়, যার মধ্যে ছোট লাল গোলাকার ডিম থাকে। খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাতা শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায় এবং পরে ঝরে পড়ে। অনেক পাতা ঝরে গেলে চা‑গাছ নতুন ফ্লাশ তৈরি করা বন্ধ করে দেয় এবং গাছের বৃদ্ধি খুব ধীর হয়ে যায়।

সুপারিশমালা

জৈব নিয়ন্ত্রণ

প্রথম দমন ব্যবস্থা হিসাবে উদ্ভিজ্জ নির্যাস ব্যবহার করুন। নির্বাচিতভাবে স্প্রে করে প্রাকৃতিক শত্রুদের সংখ্যা বজায় রাখুন। চাষাবাদের নিয়মিত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জৈব নিয়ন্ত্রণ মিলিয়ে প্রয়োগ করুন। প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে কি না নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং সেই অনুযায়ী রাসায়নিকের ধরন পরিবর্তন করুন। মাইটের ঋতুভিত্তিক জনসংখ্যা-চক্র অনুযায়ী সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিন।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

ডিম‑পর্যায়কে লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট মাইট-বিনাশকারী কীটনাশক ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়া ঠেকাতে ভিন্ন ভিন্ন রাসায়নিক গোষ্ঠীর মাইট-বিনাশকারী কীটনাশক পালা করে ব্যবহার করা উচিত। পাতায় প্রথম হলুদ দাগ দেখা মাত্র স্প্রে শুরু করতে হবে। স্প্রে করার সময় পাতার উপরের পৃষ্ঠে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে, কারণ মাইট মূলত সেখানেই খায়। প্রাকৃতিক শত্রুদের বাঁচিয়ে রাখতে কম কিন্তু কার্যকর মাত্রা ব্যবহার করা ভালো। শুষ্ক আবহাওয়া শুরু হওয়ার আগে সময়মতো স্প্রে করলে আক্রমণ দ্রুত কমে যায়।

এটা কি কারণে হয়েছে

এই লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে লাল চা মাইট (Oligonychus coffeae), যা মাত্র ০.৩–০.৪ মিমি আকারের অতি ক্ষুদ্র, ৮‑পা‑ওয়ালা মাইট। এদের শরীরের সামনের অংশ উজ্জ্বল লাল এবং পেছনের অংশ লালচে‑বাদামি বা বেগুনি রঙের হয়। পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী মাইট, লার্ভা এবং নিম্ফ—সবাই পাতার রস চুষে খায়। এরা সারা বছরই সক্রিয় থাকে, তবে ঋতুভেদে আক্রমণের মাত্রা বদলায়। তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা হালকা উষ্ণ হলে আক্রমণ শুরু হয় এবং তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায়। বর্ষা শুরু হলে বৃষ্টির জলে বেশিরভাগ মাইট ধুয়ে নেমে যায় এবং প্রায় অদৃশ্য হয়ে পড়ে। বর্ষার পরে আবার ফিরে আসে, তবে সাধারণত তখন গুরুতর আকার নেয় না। ঠান্ডা আবহাওয়ায় এদের প্রজনন অনেক কমে যায় এবং সংখ্যা খুব নিচে নেমে আসে। লাল চা মাইট বহু দেশে চা‑গাছের সবচেয়ে ভয়ংকর কীট হিসেবে পরিচিত। সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি গুরুতর ফলন‑ক্ষতি ঘটাতে পারে।


প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • যেখানে সম্ভব, মাইট‑সহনশীল জাত ব্যবহার করুন।
  • গাছে জমে থাকা মাইটের উপনিবেশ নষ্ট করতে ব্যাপক ছাঁটাই করুন ও ঝরে পড়া পাতা পরিষ্কার করুন। মাইটের সক্রিয় মৌসুমে সপ্তাহে একবার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং পাতার রং বদলানো বা দাগ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
  • শুকনো সময়ে মাটিতে যথেষ্ট আর্দ্রতা বজায় রাখুন, যাতে গাছের চাপ কমে এবং মাইটের আক্রমণ ধীর হয়।
  • পাতা তোলার সময় অতিরিক্ত আক্রান্ত নিচের পাতা তুলে ফেলে দিন, যাতে উৎসস্থল কমে যায়।
  • এক ক্ষেত থেকে আরেক ক্ষেতে যাওয়ার আগে যন্ত্রপাতি ও পোশাক পরিষ্কার করুন, যাতে মাইট ছড়াতে না পারে।
  • ঝোড়ো হাওয়ার দিনে অত্যন্ত আক্রান্ত এলাকায় কাজ করা এড়িয়ে চলুন, কারণ বাতাসে মাইট সহজে ছড়িয়ে পড়ে।

প্ল্যান্টিক্স অ্যাপসকে ডাউনলোড করুন