কোকো ফলের সাদা ছাঁচ পচন রোগ

কোকো

কোকো ফলের সাদা ছাঁচ পচন রোগ

Moniliophthora roreri

ছত্রাক

সংক্ষেপে

  • শুঁটি (পড) ফুলে ওঠে এবং তাতে গাঢ় বাদামি দাগ দেখা যায়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
  • সংক্রমিত অংশে সাদা, গুঁড়ো‑জাতীয় আবরণ তৈরি হয়।
  • ভেতরের অংশে লালচে‑বাদামি রঙের পচন দেখা যায়।
  • আক্রান্ত শুঁটি সাধারণত সুস্থ শুঁটির তুলনায় ভারী হয়ে যায়।
  • শেষ পর্যন্ত শুঁটি শুকিয়ে শক্ত, কালো “মমি” আকৃতির হয়ে যায়।

এখানেও পাওয়া যেতে পারে

0 বিবিধ ফসল

কোকো ফলের সাদা ছাঁচ পচন রোগ

কোকো

উপসর্গ

কোকো ফলের সাদা ছাঁচ পচন রোগ কোকোর শুঁটিকে বিভিন্ন বয়সে আক্রমণ করে, এবং শুঁটিবড় হওয়ার সাথে সাথে লক্ষণও পরিবর্তিত হয়। এই রোগ শুধু শুঁটি ও ফলকে আক্রমণ করে—পাতা বা ডাল কখনো আক্রান্ত হয় না। কচি শুঁটিতে হালকা ফোলা ভাব দেখা যায় এবং সামান্য হলদে রঙ দেখা দেয়। শুঁটির ভেতর নরম ও জলযুক্ত হয়ে যায়। বড় হতে থাকা শুঁটিতে বিকৃতি আরও বাড়ে এবং বড় বাদামি দাগ দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে পুরো শুঁটি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমিত অংশ সাদা গুঁড়ো‑জাতীয় স্পোরে ঢেকে যায়। অনেক সময় শুঁটি অকালেই পাকার মতো দেখায় এবং ভেতরে লালচে‑বাদামি পচন তৈরি হয়। পরিপক্ব শুঁটিতে অনিয়মিত তেলতেলে বাদামি দাগ দেখা যায়, যা একত্রে মিশে যায় এবং পরে সাদা গুঁড়োর স্তর তৈরি হয়। আক্রান্ত শুঁটি সুস্থ শুঁটির তুলনায় ভারী হয়ে যায় এবং শেষে শুকিয়ে শক্ত, কালো “মমি” আকৃতির হয়ে পড়ে।

সুপারিশমালা

জৈব নিয়ন্ত্রণ

যেমন রাসায়নিক ছত্রাকনাশক আগে থেকে ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে, জৈবিক নিয়ন্ত্রণও শুঁটি আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রয়োগ করলে সর্বাধিক কার্যকর হয়। কিছু Trichoderma প্রজাতি নিয়মিত ও প্রতিরোধমূলকভাবে ব্যবহার করে ছত্রাকের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ভালো ফল দেখিয়েছে।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

রোগ নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক ছত্রাকনাশক সহায়ক হতে পারে, তবে এগুলো সবচেয়ে ভালো কাজ করে যখন ভালো কৃষি‑ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়। সংক্রমিত গাছকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টার থেকে প্রতিরোধই সবসময় বেশি কার্যকর ও কম খরচের। স্প্রে করার সময় শুঁটি/ফলগুচ্ছের ওপর বেশি জোর দিন, বিশেষ করে কচি শুঁটির ওপর। শুকনো আবহাওয়ায় স্প্রে করুন। স্প্রে ভালোভাবে গাছের সবজায়গায় পৌঁছানোর জন্য মোটরচালিত স্প্রে মেশিন ব্যবহার করুন।

এটা কি কারণে হয়েছে

কোকো ফলের সাদা ছাঁচ পচন রোগটি সৃষ্টি হয় Moniliophthora roreri নামের ছত্রাক দ্বারা। ০–৩ মাস বয়সী কোকো শুঁটি সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল, আর ৫–৬ মাস বয়সী পরিপক্ব শুঁটি তুলনামূলকভাবে বেশি সহনশীল। এই ছত্রাকের স্পোর বাতাসে ভেসে বা বৃষ্টির ছিটায় সহজেই ছড়িয়ে পড়ে, এবং উচ্চ আর্দ্রতা এদের জন্য খুব অনুকূল—তাই বর্ষাকালেই রোগের বিস্তার সবচেয়ে বেশি হয়। তবে দূষিত কৃষিযন্ত্র, পোশাক, বা আক্রান্ত শুঁটি বাগানের ভেতর এদিক‑ওদিক সরানো—এসবের মাধ্যমেও স্পোর ছড়ায়। ঘন ছায়াযুক্ত গাছপালা ও বাতাস চলাচল কম এমন জায়গা রোগের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।


প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • রোগ‑সহনশীল কোকো জাত পাওয়া গেলে সেগুলো ব্যবহার করুন।
  • গাছগুলো সপ্তাহে একবার পরীক্ষা করুন এবং আক্রান্ত পড শুঁটি তুলে ফেলুন—বিশেষ করে কচি শুঁটিগুলোতে বেশি নজর দিন।
  • রোগাক্রান্ত শুঁটি অন্তত ৫০ সেন্টিমিটার গভীরে পুঁতে ফেলুন বা পুড়িয়ে নষ্ট করুন।
  • সংক্রমিত এলাকা থেকে শুঁটি কখনোই অন্যত্র পরিবহন করবেন না।
  • গাছগুলি বছরে দুইবার ছাঁটাই করুন, যাতে বাতাস চলাচল ভালো হয়।
  • একে‑অপরকে অতিক্রম করে বেড়ে ওঠা ডালপালা ও জলচুষা অঙ্কুর সরিয়ে ফেলুন।
  • গাছের উপরের ছাউনি নিচু রাখুন (৩–৪ মিটার উচ্চতা)।
  • আর্দ্রতা কমাতে জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করুন।
  • আগাছা পরিষ্কার রাখুন, যাতে রোগের বাহক উদ্ভিদ না থাকে।
  • পাকা শুঁটি নিয়মিত সংগ্রহ করুন—অতিরিক্ত পাকা ফল গাছে রেখে দেবেন না।
  • সব কৃষিযন্ত্র পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করুন।

প্ল্যান্টিক্স অ্যাপসকে ডাউনলোড করুন