আঙ্গুরের এসকা  রোগ

আঙুর

আঙ্গুরের এসকা রোগ

Togninia minima

ছত্রাক

সংক্ষেপে

  • পাতা টুকরো হয় , পরে কলা বিনষ্ট হয়ে শুকিয়ে যায় এবং অকালে ঝরে পড়ে।
  • ফলের উপর ছোট, গোলাকার, গাঢ় দাগ দেখা যায় ফলে ফেটে যায়।
  • কাঠ আড়াআড়িভাবে কাটলে বৃত্তাকার রিং দেখা যায়।

এখানেও পাওয়া যেতে পারে

1 বিবিধ ফসল

আঙ্গুরের এসকা  রোগ

আঙুর

উপসর্গ

গাছের বৃদ্ধির যে কোন পর্যায়ে এ রোগের সংক্রমণ হতে পারে। প্রধান লক্ষণ হলো পাতার আন্তঃশিরায় ফাটল যার বৈশিষ্ট্য বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে যাওয়া এবং অকালে ঝরে পড়া। প্রধান উপসর্গ পাতার আন্তঃশিরায় ফাটল, যা প্রধান শিরার চারপাশে কলার বিকলতা এবং শুষ্কতা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। পাতা পুরোপুরি শুকিয়ে যায় এবং অকালে ঝরে পড়ে। ফলের উপর ছোট, গোলাকার, গাঢ় দাগ দেখা যায় যা প্রায়ই বাদামী -রক্ত বর্ণের রিং দিয়ে আবদ্ধ থাকে। ফল ধারণ এবং পাকার যে কোন সময় দাগ দেখা যেতে পারে। গাছে আক্রমণ তীব্র হলে ফল শুকিয়ে ফেটে যায়। আক্রান্ত কেন, স্পার, করডন বা কাণ্ড আড়াআড়িভাবে কাটলে গাঢ় দাগ থেকে সৃষ্ট বৃত্তাকার রিং দেখা যায়। এপোপ্লেক্সি নামক এসকা-র একটি মারাত্মক গঠনের ফলে হঠাৎ পুরো লতা মরে যেতে পারে।

সুপারিশমালা

জৈব নিয়ন্ত্রণ

প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড গরম জলে ৩০ মিনিট ধরে সুপ্ত কাটিংস ভিজিয়ে রাখুন। এটি সব সময় কার্যকরী না এবং অবশ্যই অন্যান্য পদ্ধতির সাথে সমন্বয় করতে হবে। ট্রাইকোডার্মার কিছু প্রজাতি ছাঁটাই দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতস্থান, চারার প্রান্ত এবং গ্রাফটিং-এর মিলন স্থানে রোগ সংক্রমণে বাধা দেয় । এই ব্যবস্থা ছাঁটাই-এর ২৪ ঘন্টার মধ্যে এবং আবার ২ সপ্তাহ পরে সম্পন্ন করতে হবে ।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

সম্ভবমতো সমম্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রাসায়নিক কৌশলগুলি কঠিন, কারণ প্রচিলত ক্ষত রক্ষাকারী উপাদান ছত্রাকের উপর প্রভাব ফেলার জন্য সুপ্তাবস্থায় থাকা আঙ্গুর গাছের কাঠের যথেষ্ট গভীরে প্রবেশ করে না। প্রতিরোধক ব্যবস্থা সমস্ত প্রধান কাণ্ড রোগের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি । উদাহরণস্বরূপ, গ্রাফটিং করার আগেই, আঙ্গুরের লতা বিশেষ মোম সংঘটিত উদ্ভিদ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক বা ছত্রাকনাশক ফরমুলেশনে ডুবিয়ে রাখতে হবে। এটি সফল গ্রাফটিং-এর মিলন এবং ছত্রাকের বাধাদানে সহায়তা করে ।

এটা কি কারণে হয়েছে

উপসর্গ প্রধানত ছত্রাক টগনিনিয়া মিনিমা দ্বারা সৃষ্ট কিন্তু এছাড়াও অন্যান্য ছত্রাক জড়িত হতে পারে (উদাহরণস্বরূপ ফেইমনিলা ক্লামাইডোস্পোরা )। সংক্রমণ প্রকৃতপক্ষে ছোট গাছে ঘটে কিন্তু ৫-৭ বছর পর লক্ষণগুলি ভয়াবহতায় রূপ নেয়। ছত্রাক শীতকালে গাছের কাষ্ঠল অংশে শীত নিদ্রায় যায় এবং টিকে থাকে। বসন্তের বৃষ্টিপাতের সময়, বীজ উৎপাদিত হয় এবং মুক্ত হয় এবং সুপ্তাবস্থায় ছাঁটাই স্থানে জখম হওয়ার স্থানে সংক্রমণ ঘটায়। ছাঁটাই-এর পর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত জখম হওয়ায় স্থান ছত্রাকের প্রতি সংবেদনশীল থাকে। ছাঁটাই-এর ফলে সৃষ্ট ক্ষত আক্রান্ত হওয়ার পর, জীবাণু স্থায়ী অবস্থা লাভ করে, স্থানীয় কাঠ সংক্রমিত হয় যা পরবর্তীতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগের দ্বারা নির্মূল করা যায় না।


প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • বিকল্প ছাঁটাই পদ্ধতি ব্যবহার করুন যেমন দেরীতে বা একাধিকবার ছাঁটাই করা।
  • ভারী বৃষ্টিপাতের সময় ছাঁটাই কাজ এড়িয়ে চলুন কারণ এ সময় ছত্রাকের গুটি ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে।
  • বসন্তে বাগান পর্যবেক্ষণ করুন এবং মৃত বা খাটো কাণ্ড খুঁজে বের করুন।
  • গ্রীষ্মের শেষে ক্ষতস্থান কেটে ফেলুন।
  • ক্ষেত থেকে রোগাক্রান্ত ধ্বংসাবশেষ সরান এবং তাদের ধ্বংস করুন।
  • গাছে পর্যাপ্ত মূল এবং কাণ্ড না হলে ফল আসতে কয়েক বছর দেরী হয় ।

প্ল্যান্টিক্স অ্যাপসকে ডাউনলোড করুন