তুলার হেলিকোভার্পা কীড়াপোকা - বেগুন

বেগুনবেগুন

তুলার হেলিকোভার্পা কীড়াপোকা

Helicoverpa armigera


সংক্ষেপে

  • পোকার খাওয়ার কারণে ফুল, ফল, শুঁটি, বীজকোষ ও পাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়.
  • প্রবেশ ও প্রস্থান ছিদ্র ও ছিদ্রের বাইরে বিষ্ঠার চিহ্ন দেখা যায়.
  • দ্বিতীয় দফার আক্রমণে আক্রান্ত কোষকলা ও ফল পচতে শুরু করে ।.

লক্ষণ

সাদা থেকে বাদামী রঙের ডিমের গুচ্ছ মুকুল ও কচি পাতার আশেপাশে লক্ষ্য করা যায়। যে কোনো উদ্ভিদের কোষকলাতেই খাওয়ার চিহ্ন দেখা যায় কিন্তু পোকার কীড়া ফসল পাকার সময় ফসলের ফুল, ফল/শিষ/শুঁটি বেশী করে খাবে কিনা তা আবাসী উদ্ভিদের উপরে নির্ভর করে। ক্ষতিগ্রস্ত কোষ কলা পচে গিয়ে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। অল্পবয়স্ক কীড়া পাতা কংকালের মত করে ফেলে, মুকুল, এবং ফলের গোড়ায় আক্রমণ করে সামান্য ক্ষতি করে। বয়স্ক কীড়া ফুল/কচি ফল/শুঁটিতে আক্রমণ করে ভিতরে ছিদ্র করে, বীজ নষ্ট করে, এর ফলে তুলার বাজার মূল্য ব্যাহত হয়। খাওয়ার স্থানে পোকার কীড়ার বিষ্ঠা পরিলক্ষিত হয়। দ্বিতীয় দফার আক্রমণে আক্রান্ত কোষকলা পচা শুরু করে।

আবাস

ট্রিগার

হেলিকোভার্পা আরমিজেরার কীড়া ক্ষতি সাধন করে। এই হেলিকোভার্পা আরমিজেরা কৃষির ক্ষেত্রে সবথেকে বেশী ক্ষতিকারক বালাইগুলির মধ্যে অন্যতম। বয়স্ক পোকা সাধারণতঃ হালকা বাদামী হয় ও পাখার বিস্তার হয় ৩-৪ সেমি.। সামনের ডানা গাঢ় নকশার সাথে হলুদ থেকে কমলা বা বাদামী রঙের হয়। পিছনের ডানা কালো শিরা ও কিনারায় কালো লম্বা দাগসহ ধূসর সাদা রঙের হয়। স্ত্রী পোকা পাতার উপর ও নিচের পৃষ্ঠে একটি বা গুচ্ছাকারে সাদা থেকে বাদামী রঙের বর্তুলাকার ডিম পাড়ে। বয়স অনুযায়ী কীড়া গাঢ় সবুজ থেকে লালচে কালো রঙের হয়। এদের মাথা গাঢ় রঙের এবং দেহে ছোট ছোট কালো দাগ দেখা যায়। পরবর্তী পর্যায়ে এদের পিছনে ও দেহের পার্শ্বদেশে রেখা ও পটি দেখা যায়। কীড়া গাছ থেকে নিচে মাটিতে পড়ে ও পুত্তলি পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত হয়। পোকার সংখ্যা সাধারণত ফল/গুটি/শুঁটি বিকাশের সময় সর্বোচ্চ হয়, যার কারণে ফলন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।

জৈবিক নিয়ন্ত্রণ

ট্রাইকোগ্রামা প্রজাতির ওয়াস্প ডিমের ওপর পরজীবায়ন করে। মাইক্রোপলিটিস, হেটারোপেলমা এবং নেটেলিয়া প্রজাতির ওয়াস্প কীড়ার ওপর পরজীবায়ন করে। শিকারী পোকা, পিঁপড়া, মাকড়শা, ঝিঁঝিপোকা ও মাছি পোকার কীড়াকে আক্রমণ করে। স্পিনোস্যাড, নিউক্লিওপলিহেড্রোভাইরাস (এনপিভি), মেটারহিজিয়াম অ্যানিসপলিয়া, বিউভেরিয়া ব্যাসিয়ানা বা ব্যাসিলাস থিউরিনজেনসিস সমন্বিত জৈব কীটনাশক প্রয়োগ করতে পারেন। কুঁড়ি আসার পর্যায়ে উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত উপাদান, যেমন নিমের তেল, নি্ম বীজের শাঁসের নির্যাস (এনএসকেই ৫%), মরিচ বা রসু্ন পাতায় স্প্রে আকারে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ

সম্ভবমতো সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বদা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। উপকারী পোকার ক্ষতি করে না এমন সুনির্দিষ্ট কীটনাশক প্রয়োগ করুন। পোকার আক্রমণ হ্রাস করার জন্য ক্লোরানট্রানিলিপ্রোল, ক্লোরোপাইরিফস, সাইপারমেথ্রিন, আলফা-অ্যাণ্ড জিটা-সাইপারমেথ্রিন, এমামেক্টিন বেঞ্জোয়েট, এস্ফেনভ্যালারেট, ফ্লুবেনডায়ামাইড, বা ইণ্ডোক্সাকার্ব সমন্বিত কীটনাশক প্রয়োগ করুন (২.৫মিলি/লি)। ফুল আসার পর প্রথম প্রয়োগ করতে হবে এবং ১০- ১৫ দিন পর পর প্রয়োগ করতে হবে। স্বল্প মূল্যের ফসলে রাসায়নিক দমন ব্যবস্থা প্রয়োগ করা লাভজনক হবে না।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

  • যদি পাওয়া যায় তাহলে প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করুন.
  • পোকার অধিক আক্রমণ পরিহার করতে মরশুমের শুরুতে বপন করুন.
  • গাছের মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা ফাঁকা রাখুন.
  • কিছু অংশ চাষাবাদ না করে রেখে দিন যাতে পোকার জীবনচক্র বাধাপ্রাপ্ত হয়.
  • পাখি শুঁয়োপোকা খায় বলে পাখি বসার জন্যে দণ্ড স্থাপন করুন.
  • প্রতি ৫ বা ৬ সারিতে ফাঁদ ফসল যেমন আফ্রিকান গাঁদা (ট্যাজিটাস ইরেক্টা) চাষ করুন.
  • আলো বা ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা তদারকি করুন ও ধরুন.
  • ভালো নিষ্কাশন ব্যবস্থার আয়োজন করে জলের চাপ পরিহার করুন.
  • ফুল, ফলের শুঁটি বা বীজকোষে পোকার ডিম বা ক্ষতির চিহ্ন যাচাই করুন.
  • পাতা বা গাছ পোকার ডিমসহ হাত দিয়ে সংগ্রহ করুন.
  • জমি থেকে আক্রান্ত গাছ ও সেইসঙ্গে জমি ও এর আশপাশ থেকে আগাছা পরিষ্কার করুন.
  • প্রতিটি ফসল চক্রের পর ফসলের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করুন.
  • ফসল সংগ্রহের পর জমিতে গভীর চাষ দিয়ে পোকাকে শিকারী পোকা বা সূর্যের আলোর জন্য উন্মুক্ত করুন.
  • একই ধরনের ফসল চাষ পরিহার করুন এবং অনাবাসী ফসলের সাথে শস্য আবর্তন বজায় রাখুন।.