Tilletia barclayana
ছত্রাক
ধান পাকা পর্যায় এলে লক্ষণ স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়। কালো বর্ণের সংক্রামিত ফুস্কুড়ি ফেটে বের হলে ধানের খোসা গাঢ় কালো বর্ণের হয়ে যায়। সকালে শিশির ভেজা অবস্থায় স্পোর সবচেয়ে বেশি দৃষ্টিগোচর হয়। সংক্রামিত শস্যদানা আংশিকভাবে বা সম্পূর্ণরূপে কালো হয়ে যেতে পারে। স্পোরগুলোর কালো ফুস্কুড়ি, খোসাকে ভিতর থেকে চাপ দেয়, যা শিশিরের আর্দ্রতা শোষণ করে রাতারাতি স্ফীত হতে পারে। ধানের অন্যান্য অংশেও সংক্রামিত শস্যের বীজের স্পোর বিস্তৃত থাকতে পারে, যেটি কালো আচ্ছাদন গঠন করে যা রোগ সনাক্তকরণে সহায়তা করে ।
কীটপতঙ্গ এবং রোগের প্রবেশ, বৃদ্ধি এবং বিস্তার রোধে সর্বোত্তম জীবসুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। টিলেসিয়া বারক্লেয়ানা ছত্রাকের বিরুদ্ধে বেসিলাস পোমিলাস খুব কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
সম্ভবমতো সমম্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। অতিরিক্ত মাত্রায় নাইট্রোজেন প্রয়োগ এধরনের রোগ সৃষ্টিতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে, তাই যথাযথ সময়ে সুপারিশকৃত হারে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ করুন। সংক্রমণের মাত্রা কমানোর জন্য ধানের থোড় হওয়ার পর্যায়ে প্রোপিকনাজোল স্প্রে করুন। যেমনঃ আজক্সিকোস্ট্রোবিন, ট্রাইফ্লোক্সাইস্টোবিন জাতীয় ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে।
টিলেসিয়া বারক্লেয়ানা সৃষ্ট রোগটি, যা নিউভোসিয়া হরিদা নামেও পরিচিত। ধানের শস্যদানার বদলে কালো স্পোর হিসাবে ছত্রাক বেঁচে থাকে। বায়ুবাহিত ছত্রাকটি ধান ফসল এবং এর কাছাকাছি অন্যান্য জাতের ফসলের মধ্যে পুনরায় সংক্রমিত হতে পারে। যখন দূষিত শস্য, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম পরিবহন করা হয় তখন রোগ ছড়িয়ে যায়। আবার যখন ছত্রাকের স্পোরগুলো সংক্রামিত এবং কলুষিত বীজ দ্বারা বাহিত হয় তখনও রোগ ছড়িয়ে যেতে পারে। জলের উপর ভেসে থেকে ধানের কালো শস্যদানার মাধ্যমে স্পোর বিস্তার লাভ করতে পারে।এ জীবাণু প্রায় ৩ বছর বীজের মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে এবং এমনকি গবাদি পশুর পাচক তন্ত্রের মধ্যেও টিকে থাকতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা দ্বারা ছত্রাকের বিকাশ অনুকূল পরিবেশ পায়। ভোরবেলায় শিশিরভেজা অবস্থায়, কালো আক্রান্ত শস্যদানা ফুলে উঠলে ফলস্বরূপ স্পোর চারিদিকে ছড়িয়ে যায়।